Header Ads

আজ বাংলা
ইংরেজি

মানবতা



“হিজাড়া”নামটা শুনলে কেমন জানি ঘৃণা জন্ম হয় তাই না,,??

বাংলা ভাষায় হিজড়া বলা হয় আন্তঃলিঙ্গের বা ক্লীব লিঙ্গের ব্যক্তি বা বস্তুকে।বিজ্ঞানের ভাষায় হিজড়া বলা হয় যাদের ক্রোমোজোন ত্রুটির কারণে জন্মগত যৌন প্রতিবন্ধী তাদেরকে।

কিন্তু দেখুন সমাজে অবহেলিত বস্তুগুলোর মধ্যে একটি হলো “হিজড়া”যাদের আমরা আড়চোখে দেখি।আমি ছোট বেলা থেকেই ঢাকায় থাকি মাদরাসা ছুটি হলে বাড়ীতে আসতাম।আসলেই প্রায় সময় দেখতাম, দুইটা হিজড়া আমার মায়ের সাথে খুব মিল। আমার মাকে নানি বলে ডাকতো।

তাদের দেখলেই আমার মাঝে ঘৃণা সৃষ্টি হতো,কারণ একদিন আমার থেকে টাকা পায়নি বলে আমার টুপিটা ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিলো তাই।

তারা যাওয়ার পর মাকে জিজ্ঞেস করলাম ওদের সাথে আপনার এতো মিল কেন,,?? আর যেন না দেখি।

মা আমাকে বুজাতে শুরু করলো,আর বললো ওদের নাম হলো নুপুর আর ঝুমুর।ওরা দুই বোন। বাবা মা কেউ নেই তাই আমাদের এখানে এসে শান্তি পায় তারা।আরো বললো আমাদের এখানে আসলে নাকি তারা খুব সহোযোগিতা করে “মা”কে। যেহেতু আমরা কেউ বাড়ীতে থাকি না তাই একটু খুশিই হলাম যে তারা মাকে সাহায্য করে।মনের অজান্তেই তাদের প্রতি ভালোবাসা বেড়ে গেলো।

আমার ছুটি শেষ তাই বাড়ীতে মাদরাসায় রওনা হবো।যাক সকলের থেকে বিদায় নিলাম ঢাকার উদ্দেশ্য। বাসটা যখন পরিচিত টার্মিনাল সায়দাবাদ আসলো তখন কিছু “হিজড়া”বাসে উঠলো।সব সিটের লোকদের থেকে টাকা আদায় হলো।

সবশেষে আমার কাছে আসলো।তাদের ভাষায় বলল (ঔ ঔ টেকা দে, টেকা দে,না হয় দেখাই দিমু) তাদের অবস্থা দেখে হাসবো না কাঁদবো ভেবে পাচ্ছিলাম না।পকেট থেকে খুঁজ করে দশ টাকা বের করলাম।ভালোবাসা জন্মালেও কিপ্টামী রয়ে গেছে।

এভাবেই দেখতে দেখতে আবারও মাদরাসা বন্ধ হয়,বাড়ীতেও আসি।কিন্তু এবার একটু পরিবর্তন দেখছি নুপুর আর ঝুমুরকে দেখি না।

“মা”কে জিজ্ঞেস করলাম। মা বললো তারা মারা গেছে। আসলেই সেদিন মনের অজান্তেই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য কেঁদেছিলাম।

আসলেই হিজড়ারা অসহায় এদেরকে আপনি ভালোবাসা দিবেন,এরাও আপনার পাশে এসে আপনার জন্য সহোযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবে।

এদেরকে কখনো ছোট করে দেখবেন না,এদের অবহেলা করবেন না।এরাও মানুষ, এরাও আল্লাহর সৃষ্টি। লিঙ্গের পার্থক্য দিয়ে এদের বিবেচনা করবেন না।

ঢাকার সায়দাবাদে এদের পল্লী আছে,শুনেছি নিজ চোখেও দেখেছি।এরা পেটের তাড়ানায় আপনার কাছে হাত পাতে।যদি এদের সঠিক কর্ম সংস্থান থাকতো, তাহলে কখনোই তারা আপনার কাছে হাত বাড়াতো না।

এরাও আজ অসহায় তাই এদের দিকেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।


লেখেছেন: আলাউদ্দীন আরিয়ান



কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.