Header Ads

আজ বাংলা
ইংরেজি

কু-ধারনা'র পরিনাম



ইসলাম স্বচ্ছতার ধর্ম, নিষ্কুলুষ জীবন-যাপনে পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এ কারণেই মানুষের প্রতি অযথা খারাপ ধারণা করার কোনো সুযোগ নেই। সুন্দর ও উন্নত সমাজ বিনির্মাণে ইসলাম মানুষের প্রতি সুধারণা পোষণ করতে উৎসাহিত করেছেন।

তাছাড়া প্রমাণ ব্যতিত কোনো মুসলমানের প্রতি কুধারণা বা অহেতুক খারাপ ধারণা পোষণ করা হারাম। আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা অধিকাংশ (অহেতুক) অনুমান থেকে দূরে থাক। কারণ (অহেতুক) অনুমান কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাপ। (সুরা হুজরাত : আয়াত ১২)

 মানুষের প্রতি কু-ধারণা পোষণ করার ফলে পরস্পরের প্রতি বিরূপ মনোভাবের সৃষ্টি হয়; সামাজিক সুসম্পর্ক ছিন্ন হয়। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজে ও রাষ্ট্রে পারস্পরিক ঐক্য, সাম্য ও সম্প্রীতি নষ্ট হয়। আর এ অহেতুক ধারণা থেকেই মিথ্যার সৃষ্টি।

  নবী করীম (স.) পরস্পরের প্রতি অহেতুক ধারণা করা থেকে বিরত থাকতে হাদিসের মাধ্যমে সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা অহেতুক ধারণা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা ইহা জঘন্যতম মিথ্যাচার। (বুখারি ও মুসলিম)

যেহেতু হাদিসের ভাষায় অহেতুক ধারণা করা জঘন্যতম মিথ্যা। তাই বিনা কারণে মিথ্যাচার করা থেকে বিরত থাকা মুসলমানদের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। কেননা ইসলামে মিথ্যাচার কবিরা গোনাহ। অর্থাৎ অহেতুক ধারণা করাও কবিরা গোনাহ।

এ জন্য আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিনা কারণে কারো প্রতি অহেতুক ধারণা করা থেকে বিরত থাকতে বিধি নিষেধ করেছেন। অহেতুক কুধারণাকারীর প্রতি তিনি মারাত্মক অভিশম্পাত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা বিনা অপরাধে ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদের কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে।’ (সুরা আহযাব : আয়াত ৫৮)

এ কারণেই আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতের মাধ্যমে মুসলমানদেরকে সতর্ক দিয়ে বলেন, ‘তোমরা একজন অপর জনের দোষ-ত্রুটি খোঁজা-খুঁজি করো না এবং এবং কারও অগোচরে গিবত করো না।’ (সুরা হুজরাত : আয়াত ১২)

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে কুরআন এবং সুন্নাহর বিধি-বিধান মেনে চলা একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পরস্পরের প্রতি ভালো ধারণা পোষণ করার তাওফিক দান করুন। অহেতুক কুধারণা করা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

>জহিরুল ইসলাম আবেদী

শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো মিশর

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.