Header Ads

আজ বাংলা
ইংরেজি

এক সহজসরল আ.রউফের গল্প


 


যে জীবের সেবা করলো,

সে যেনো আল্লাহর সেবা করলো।

হিফজুর রাহমান: ইকরামুল মুসলিমীন মৌলভীবাজার। নাম বললে চিনবেনা! এমন কাউকে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। 

দেশে যখন করোনা মহামারি দেখা দেয়, তখন মানবসেবায় নিজের জীবন আত্মোৎসর্গ করে একদল মানবসেবী আত্মপ্রকাশ করে। যাদের ঐক্যবদ্ধ সংগঠনের নাম ইকরামুল মুসলিমীন মৌলভীবাজার।  


সবাই শুধু কাজ দেখে। সংগঠন কতটুকু এগিয়ে গেলো,কি কি সেবামূলক কাজ করলো!  আমরা এগুলোকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকি। 

একবারও ভেবে দেখিনা, এই কাজ ও সফলতার পেছনে যারা আছে, তারা কারা? কি'ইবা তাদের পরিচয়। 


ইকরামুল মুসলিমীন মৌলভীবাজার। করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত যে সংগঠন রাতদিন ২৪ ঘণ্টা মানবসেবায় নিয়োজিত। 

১২০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত এই সংগঠন।


আ.রউফ। ইকরামুল মুসলিমীন মৌলভীবাজার এর একজন অন্যতম সদস্য। সংগঠনে সর্বপ্রথম যারা সদস্য হয়েছিলেন,তন্মধ্যে আ.রউফ অন্যতম।

যেকারো সাথে সহজে মিশে যাওয়া তার স্বভাব। হাসিখুশী তার মুখে লেগেই থাকে সবসময়। 


রাতদিন ২৪ ঘণ্টার যেকোন সময়, মালিকানাধীন সিএনজি নিয়ে উপস্থিত হন ইকরামুল মুসলিমীন এর কাজে। লক্ষ্য যে তার মানবসেবা। উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি।


এটাই যেনো কাল হয়ে দাঁড়ায় তার। 

গ্রামের লোকজন মিলে,গ্রামে ডুকতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। 

বাড়িতে দেওয়া হয় শাস্তি। প্রতিজ্ঞা করানো হয়, যেনো একাজে আর কখনো শরিক না হয়। 


কে বা শুনে কার কথা?!  মানবসেবীরা মানবসেবায় যে শান্তি পায়, এটা কীভাবে বুঝবে অন্যরা?! 


যে রাতে প্রতিজ্ঞাবাক্য পাঠ করানো হয়, সে রাতেই করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান একজন রুগী। 

কল আসে আ.রউফের কাছে। সে ছাড়া কে'ইবা গন্তব্যে পৌঁছিয়ে দিবে করোনা সেবার টিমকে? 

কে আছে নিজের জীবন ঝুঁকিতে রেখে ইনকাম করার চিন্তা করবে?  একাজ তারাই করবে, যারা নিজের জীবন উৎসর্গ করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সা. এর জন্য।


রাত ২.০০ টা। সিএনজির লাইটের আবছা আলো দেখা যায়। এতো আ.রউফের গাড়ি। ইকরামুল মুসলিমীন টিম চড়ে বসে গাড়িতে। গন্তব্য তাদের বহুদূর। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ভাইয়ের লাশ দাফনে যাচ্ছে তারা। 


কেউ নেয় নি আ.রউফের খবর। এক সাগর কষ্ট বক্ষে চেপে,মানবসেবায় আসছে সে৷ 


আ.রউফ করোনা রুগীদের সেবা করে, লাশ দাফন করে। পরেরদিন এসংবাদ পৌঁছলো,সিএনজি স্ট্যান্ডে। 

বন্ধ হলো তার রুটিরুজির ব্যবস্থা। ইকরামুল মুসলিমীন পেরেছিলো কি তার রুটিরুজির ব্যবস্থা করে দিতে? 

তাদের জন্যই তো বন্ধ হলো,তার রুটিরুজি। 

হ্যাঁ! আল্লাহ কখনোই তার প্রিয় বান্দাদের হালাল খাবার থেকে বঞ্চিত করেন না। 

তেমন'ই এক ব্যবস্থা হয়েছিলো তার। 


নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় গ্রামে। সে যেনো গ্রামে প্রবেশ করতে না পারে। 

আ.রউফ থাকবে কোথায়? কোথাও যে জায়গা নেই। 

এমন কথা শুনে কেউ বাসাভাড়া দিতেও রাজি নয়। 

খুঁজতে শুরু হলো থাকার ব্যবস্থা। আল্লাহ ব্যবস্থা করলেন। একটা নয় বরং তার থাকার জন্য শহরে দুটো বাসার ব্যবস্থা করে দিলেন। তাও একদম ফ্রি-তে। 


হ্যাঁ এভাবেই লুকিয়ে আছে,একজন সাধাসিধে আ.রউফের জীবন কাহিনী।

যা সবাই জানেনা। যারা জানে, তারা আ.রউফকে মাথার মুকুট হিসেবে তুলে ধরতে কখনোই ভুল করেনি, করবেওনা।


আল্লাহর কাছে তার নেক হায়াত কামনা করি।  ঘরেঘরে জন্ম নিক আ.রউফ। 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.