Header Ads

আজ বাংলা
ইংরেজি

সুরায়ে ওয়াকিয়ার ফজিলত



সুরায়ে ও আল্লাহ তা'য়ালা পৃথিবীতে মানুষের উপর অসংখ্য অগণিত নিয়ামত সমূহের বারিধারা বর্ষণ করেছেন ৷ তাদেরকে দুনিয়ায় সাচ্ছন্দময় জীবন যাপনের জন্য বলে দিয়েছেন বহু কার্যকরী পথ ও পন্থা৷ 

 তাঁর অনুগ্রহের মধ্যে অন্যতম ও মহা মূল্যবান কৃপা হলো ঐশী গ্রন্থ আল কুরআন , যেটা সরল পথের দিশারি ও হেদায়াতের আলোকবর্তিকা ৷

তা একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান , যাতে মানব সম্প্রদায়ের  ইহকালীন ও পরকালীন সমুদয় কল্যাণ সন্নিবেশিত রয়েছে ৷ ইহকালীন অন্যতম কল্যাণ হলো ,মানব জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা ও জীবনোপকরণ ৷ 

 মানুষের ঐ প্রয়োজন পূরণার্থে মহান আল্লাহ পাক মানুষকে বিশেষ একটি সুরা দান করেছেন , যার নাম সুরায়ে ওয়াক্কিয়া ৷ যেটার ফজিলত সম্পর্কে ,   

আল্লামা ইবনে কাসীর ইবনে আসাকীরের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ যখন অন্তিম রোগশয্যায় শায়িত, 

তখন আমীরুল মু'মিনীন হযরত উসমান (রাঃ) তাঁকে দেখতে যান ৷ ঐ সময় পরস্পরের মাঝে যে শিক্ষাপ্রদ কথোপকথন হয় ৷ তা নিম্নরুপঃ--

হযরত উসমানঃ-- مَا تَشْتَكِيْ আপনার রোগটা কি ? 
ইবনে মাসউদঃ-- ذُنُوْبِيْ গুনাহ সমূহই 
আমার বড় রোগ ৷

হযরত উসমানঃ-- مَا تَشْتَهِيْ আপনার বাসনা কি ?
ইবনে মাসউদঃ-- رَحْمَةَ رَبِّيْ আমি আমার প্রতিপালকের করুণার আশাবাদী ৷

হযরত উসমানঃ-- আমি আপনার জন্য কোনো সিকিৎসক ডাকব কি ?
ইবনে মাসউদঃ--   أَلطَّبِيْبُ أَمْرَضَنِيْ  চিকিৎসকিই তো আমাকে রোগাক্রান্ত করেছেন ৷

হযরত উসমানঃ-- আমি আপনার জন্য  রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কোনো সম্পদ পাঠিয়ে দিব কি ? 
ইবনে মাসউদঃ--  لَا حَاجَةَ لِيْ فِيْهَا আমার কোনো প্রয়োজন নেই ৷

হযরত উসমানঃ-- আপনি উপঢৌকন গ্রহণ করুন ,তা আপনার অবান্তরে আপনার কন্যাদের উপকারে আসবে 
ইবনে মাসউদঃ-- আপনি চিন্তা করেছেন যে , আমার অবান্তরে আমার কন্যারা দ্রারিদ্র ও উপবাসে পতিত হবে ৷ কিন্তু আমি এই রূপ চিন্তা করি নি ৷ 

কারণ আমি কন্যাদের কে জোর নির্দেশ দিয়ে রেখেছি যে , তারা যেন প্রতি রাত্রে সুরায়ে ওয়াক্কিয়া পাঠ করে ৷ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ-- مَنْ قَرَأَ سُوْرَةَ الْوَاقِعَةِ                           فِيْي كُلِّ لَيْلَةٍ لَمْ تُصِبْهُ فَاقَةٌ أَبَدًا      ( مسند أحمد )  --- যে ব্যক্তি প্রতি রাত্রে সুরায়ে ওয়াক্কিয়া পাঠ করবে , সে কখনো দারিদ্র ও উপবাসে পতিত হবে না ৷

হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) কে যখন তাঁর সন্তানদের জন্য একটি দেরহাম ও (অর্থাৎ কোনো প্রকার সম্পদ) রেখে না যাওয়ার কারণে ধিক্কার দেওয়া হলো , তখন তিনি প্রতিত্তরে বলেছিলেন ,আমি আমার সন্তানদের জন্য সুরায়ে ওয়াক্কিয়া রেখে গেলাম ৷ (ফয়জুল ক্কাদির ৪/৪১)

অন্য এক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে , সুরায়ে ওয়াক্কিয়া হলো ধনাঢ্যতার সুরা ৷ কাজেই নিজেরা তা পড় এবং তোমাদের সন্তানদের কে শিক্ষা দাও ৷
 
আরেক বর্ণনায় এসেছেঃ-- তোমাদের  নারীদের কে সুরায়ে ওয়াক্কিয়া শিক্ষা দাও ৷ আম্মাজান হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) --- কে সুরায়ে ওয়াক্কিয়া পাঠ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ৷

 এমনকি বর্ণিত আছে যে , সুরা আর রহমান , সুরা ওয়াক্কিয়া ও সুরা হাদীদের পাঠক কে কিয়ামতের দিবসে জান্নাতুল-ফেরদাউসের অধিবাসী হিসেবে ডাকা হবে ৷

তাছাড়া এ সুরা শারিরিক সুস্থতা রক্ষা ও অসুস্থতা দূর করণে অধিক উপকারী ৷

উক্ত বর্ণনা দ্বারা অনুধাবন করা যায় যে , সাহাবায়ে কেরামের কুরআন -সুন্নাহর প্রতি কি অটল বিশ্বাস ছিল,  যার উপর ভিত্তি করে সন্তান-সন্তুতির জন্য কিছুই রেখে যান নি ৷

কেননা তিনি  হুজুর সাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন , যে ব্যক্তি সূরায়ে ওয়াক্কিয়া প্রতিনিয়ত পাঠ করবে সে কখনো ক্ষুদা ও  দারিদ্রতায় আপতিত হবে না ৷

আল্লাহ পাক যেন আমাদের দৈনন্দিন   সুরায়ে ওয়াক্কিয়া পাঠ করে ইহলৌকিক শান্তি ও পরলৌকিক মুক্তির পথ সুগম করেন ৷ আমীন ছুম্মা আমীন ৷




লিখেছেন: মুফতি নবীরুল ইসলাম
শিক্ষক: আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল কোরআন মাহিনী,নাঙ্গলকোট,কুমিল্লা৷

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.