Header Ads

আজ বাংলা
ইংরেজি

বিভ্রান্ত যুবসমাজ কিন্তু কেন?

 





একটা সমাজের মূল চালিকাশক্তি হলো আদর্শ যুবসমাজ৷ আজকের তরুণ আগামীর নেতা, রাষ্ট্রপরিচালক ৷  সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য তরুণ সমাজের ভূমিকা অপরিসীম৷ 


আদর্শবান,খোদাভীরু,দেশপ্রেমিক যুবকদের নেতৃত্বেই গড়ে উঠে একটা দেশ ও সমাজের ভিত্তি৷ তরুণরা হলো দেশের,সমাজের প্রাণশক্তি৷ সমাজের হৃদস্পন্দন৷ তাদের কন্ঠেই ধ্বনিত হয় শাশ্বত সুন্দর সমাজের রূপরেখা ৷ তাদের উদ্দীপ্ত চেহারা,ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা,কঠিন শক্তিমত্তার দিকে তাকিয়ে থাকে জীবনের অন্তিমলগ্নে হাযির হওয়া  মানুষেরা৷ 


নির্যাতিত-নিপীড়িত,বঞ্চিত-শোষিত, দরিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত বনী আদমরা চেয়ে থাকে তারুণ্যের প্রতি৷ তাদের বিশ্বাস একমাত্র তরুণরাই পারে স্বপ্নের সমাজ,দেশ,জাতি উপহার দিতে৷


তারুণ্যের মুষ্টিবদ্ধ হাতকে রুখে দেয়ার শক্তি কোন অপশক্তিরই নেই৷ তারাই পারে তাঁদের সু-ইচ্ছার প্রতিপলন ঘটাতে৷


তাদের মুষ্টিবদ্ধ হাত কতো সৈরাচারী আর অপশক্তিকে নাকানিচুবানি খাইয়েছে, তাতো ইতিহাসের পাতা উল্টালেই চোখে পড়ে৷


কিন্তু উদ্বেগজনক ও আশংকার বিষয় হলো,আমাদের বর্তমান তরুণরা আমাদেরকে সুন্দরতম সমাজ উপহার দিতে সক্ষম? যে যুবকরা সমাজের কর্ণধার তারা কি দিকভ্রান্ত জাতিকে সঠিক পথনির্দেশে আজো যোগ্যতা রাখে? 

বর্তমানে অধিকাংশ যুবকরাই বিপথে পা বাড়াচ্ছে৷


দেশের প্রায় সকল প্রকার অপরাধ মূলক ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তারা জড়িত । খুন,ছিনতাই ,ধর্ষণ,ইভটিজিং,অপহরণ, চাঁদাবাজি,মুক্তিপণ আদায়ের মত ঘটনাও সংঘটিত হচ্ছে যুবকদের দ্বারা৷ 

 এভাবে হাজারো মেধাবী ও সম্ভাবনাময় তরুণ হারিয়ে যাচ্ছে নীল দুনিয়ায়৷ সত্য ন্যায়ের শ্বাশ্বত সুন্দর পথ থেকে দূরে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত৷


কিন্তু কেন? কেন স্বপ্নের সারথী তরুণ সমাজ আজ আদর্শচ্যুত৷ কখনো তো এমন হওয়ার কথা ছিলনা৷


যুবকরা যেমন একটা দেশ ও জাতির গৌরবের প্রতিক সমানভাবে একটা জাতিকে ধ্বংস ও অধঃপতনের অতল গহ্বরে নিয়ে যায় যুবকরাই৷ তাই আমাদেরকে যুবসমাজের বিপথগামীতার কারণ অনুসন্ধান করতে হবে৷ তাদেরকে নীড়ে ফেরাতে যথাপযুক্ত ব্যবস্থা করতে হবে৷ 


যৌবনের বয়সটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷অবশ্য এর অনেকগুলো কারণও রয়েছে৷ যেগুলো সমাধান করা রাষ্ট্র থেকে দ্বীনের দাঈদের কর্তব্য


যুবসমাজ বিভ্রান্ত হওযার কিছু মৌলিক কারণ নিম্নে উল্লেখ করা হলো৷


এক. ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাব৷ 


ধর্ম জীবন চলার পথে কতোটা প্রভাব রাখে তা আমরা সম্প্রতি  ঘটনাপ্রবাহের দিকে দৃষ্টিপাত করলেই অনুমান করতে পারবো৷ আজ ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাবে মানুষ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে৷


একজন ব্যক্তি যখন তাকে ইসলামী বিধি অনুযায়ী পরিচালনার ইচ্ছে করে তখন তার ভেতরে এমনিতেই তাকওয়া বা খোদাভীতি তৈরী হয়৷ 


দুনিয়ার আইন একটা মানুষকে সার্বিক সুরক্ষা কখনোই দিতে পারেনা৷ একটা মানুষকে ইহলৌকিক ও পরলৌকিক সার্বিক অপরাধ থেকে একমাত্র মুক্তি দিতে পারে তাকওয়া বা খোদাভীতি৷ 


 


দুই. আদর্শচ্যুত রাজনীতির মোহ


রাজনীতি প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষ ও মানবতার সেবা করা৷ সমাজে ন্যায় নীতি,আদল-ইনসাফপূর্ণ সাম্য সম্প্রীতির সমাজ গড়ে তুলা৷ কিন্তু এখন রাজনীতির অর্থ হলো চুরি,লুটপাট,দুর্নীতি আর গুম-খুনের আতুরঘর৷ নেতা হওয়ার অভিলাসে আমাদের তরুণরা এসব অপরাধ করে যাচ্ছে নিশ্চিন্তমনে৷ 


আপনিই দেখুন, একটা ছেলেকে বর্তমানে নেতা হতে হলে, তাকে সবকিছু ছেড়ে দিয়ে আরেকজনের পিছনে দিনের দিন ঘুরতে হয়৷ নেতার নেতৃত্ব পাকাপোক্ত করতে তাকে দৌড়ঝাপ করতে হয়৷ নিজের পরিবার পরিজন,পেট আর ক্ষুধার দায়ে তাকে বিভিন্ন অন্ধকারাচ্ছন্ন  জগতে পা বাড়াতে হয়৷ 


তাই আমাদেরকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিমন্ডল থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে৷ ন্যায় নীতির রাজনৈতিক প্লাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে৷ 



তিন. নৈতিক শিক্ষার অভাব৷ 



মানুষের নৈতিক শিক্ষা না থাকলে সে  যেকোন অপরাধে জড়াতে বিন্দুমাত্রও বুক কাঁপবেনা৷ ন্যুনতম চিন্তাও হবে না, আমি যা করছি ঠিক করছি তো? নৈতিক শিক্ষা মানুষকে শুদ্ধ করে তোলার ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রাখে৷ 



চার. বিজাতীয়দের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন৷



বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন আমাদের তরুণ সমাজ অধঃপতনের অন্যতম কারণ৷ 


টিভি, সিনেমা, ভিডিও, ডিস এন্টিনায় যেসব ছবি, নাচ, গান, কনসার্ট, রূপচর্চা, ফ্যাশন শো, সুন্দরী প্রতিযোগিতা, বিনোদনমূলক কুরুচিপূর্ণ ছবি, প্রোগ্রাম, নাটক, ইত্যাদি কুরুচিপূর্ণ চিত্র যুব সমাজকে অন্ধকার পথে চলতে উদগ্রীব করে তুলছে৷ 



পাঁচ. তথ্য প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও  অপব্যবহার৷



বিংশ-একবিংশ শতাব্দীতে তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষতা সত্যিই প্রশংসনীয়৷ তথ্যপ্রযুক্তির এই সহজলভ্যতা মানুষকে যেভাবে অগ্রগতির স্বপ্ন দেখিয়েছে সমানহারে অধঃপতনের অতল গহ্বরেও নিয়ে গেছে৷ 


একসময় মানুষকে সিনেমা দেখতে হলে যেতে হতো। মেমরি ডাউনলোড দিতে দোকানে যেতে হতো৷ কিন্তু বর্তমানে ব্যক্তিপর্যায়ে গড়ে ওঠছে সিনেমাসহ আরো নোংরা পরিস্থিতি। যা সত্যিই উদ্বেগজনক৷ 


ছয়. অভিভাবকদের উদাসীনতা৷



অভিভাবকদের দায়বদ্ধতার অভাবে অকালেই ঝড়ে যাচ্ছে আমাদের সোনার প্রজন্ম৷ নিয়ন্ত্রণহীন চলাফেরায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠছে আমাদের তরুণ-যুবকরা৷ ফলে ঘরে ঘরে বেড়ে ওঠছে নীতি নৈতিকতাহীন প্রজন্ম৷



সাত. বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকট৷


অভাব মানুষকে ধ্বংসের পথে এগিয়ে দেয়, কথাটা কতোটা বাস্তব তা মুখোমুখি হলে অনুমিত হয়৷ জীবনের বড় একটা অংশ পড়ালেখার পিছনে ব্যয় করার ফলাফল যখন জিরো তখন স্বাভাবিকতই সে জীবনের খেই হারিয়ে ফেলে৷ জীবনের প্রয়োজন মেটাতে জড়িয়ে যায় অনৈতিক বিভিন্ন কাজে৷ তাই যুবকদেরকে নীড়ে ফেরাতে তা সম্মানজনক জীবন যাপনের ব্যবস্থাও করতে হবে৷ 



আট. মাদক সেবন৷ 


কুরআনুল কারীম চৌদ্দশত বছর পূর্বেই মানুষকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে সতর্ক করছে৷ এমনকি মাদকাশক্ত ব্যক্তির শরয়ী শাস্তিও নিশ্চিত করেছে৷ 


কিন্তু মানুষ যখন কুরআনের বিধান ছেড়ে পাশ্চাত্যমুখি ধ্যান-ধারণায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠছে, তখন মাদকও তাদের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছে৷ মাদকদ্রব্য সেবনের ফলে একটা মানুষ তার স্বাভাবিক চৈতন্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলে,যার দরুন লিপ্ত হয় বিভিন্ন অপরাধে৷ 



নয়. যৌন শক্তির হেফাজত৷


যৌন শক্তি আল্লাহর বিশেষ এক নেয়ামত৷ আল্লাহ এই ক্ষমতা দানের পাশাপাশি তা ব্যবহারের জন্য সঠিক পন্থাও দিয়েছেন৷ তা হলো বিবাহ৷ কিন্তু এখন সামাজিকভাবে বিয়েকে এতো কঠিন করা হয়েছে যে, একটা ছেলে বিয়ে না করে হারাম সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছে আর প্রতিনিয়ত পাপ করে যাচ্ছে৷ কেউ কম বয়সে বিয়ে করলো তা নিয়ে সমালোচনার অভাব নেই। কিন্তু কেউ একই বয়সে যদি হারাম রিলেশনশিপ,যিনা ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তখন সমাজ তাকে কিছু একটা মনে করেনা৷ যা সত্যিই ভয়ঙ্কর ৷ এমনকি যুবসমাজ ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ৷ 



এগুলো ছাড়াও রয়েছে আরো নানাবিধ সমস্যা৷ তাই জাতির এই ক্রান্তিকালে আশার প্রদীপ যুবসমাজেকে সুষ্ঠুরূপে গড়ে তোলার প্রতি আমাদেরকে পূর্ণ মনোযোগী হতে হবে৷ তাদের সার্বিক সমস্যা সমাধান করতঃ ইসলামী ভাবধারার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে তুলতে হবে৷



 

লেখক : কাওসার সিদ্দিক 

বিভাগীয় সম্পাদক : দ্যা সুন্নাহ বিডি 


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.