Header Ads

আজ বাংলা
ইংরেজি

পতিতা পাপী,আমরা পাপের জন্মদাতা



মাহবুবুর রাহমান মাহদি: পতিতা। শব্দটা শুনলেই আমরা নাক ছিটকে উঠি। ছি ছি করে স্থান ত্যাগ করি।  বিষয়টা খুব ভালো। সমাজের নিকৃষ্ট লোক থেকে সর্বদা দূরে থাকা একটা উত্তম কাজ। শুধু কি পতিতারাই তাদের কাজের জন্য দোষী ?


না!  আমি তা মনে করিনা। কেননা, পতিতা যদি পাপী হয়,আমরা পাপের জন্মদাতা।


প্রশ্ন আসতে পারে, তা কীভাবে?


বাংলাদেশে সরকার অনুমোদিত পতিতালয়ের সংখ্যা পাঁচের অধিক। অর্থাৎ এই পতিতালয়ের পতিতারা সরকারের কাছে অপরাধী নয়, এমনকি এগুলোর খদ্দেররাও অপরাধী নয়।


ইসলাম কখনো অপরাধ,অপরাধীকে অনুমোদন দেয়না। সুতরাং এই পতিতালয়, পতিতা, খদ্দর সবাই অপরাধী।


আমরা যারা পতিতা নাম শুনলেই নাক ছিটকাই! আপনাদের জন্য একটা সতর্কবার্তা নিয়ে এসেছি, আপনারা কখনোই নাক থেকে মাস্ক সরাবেন না। আপনি কতবার নাক ছিটকাবেন?  তারচে বরং নাকটা আড়ালেই থাকুক।


আশ্চর্য হচ্ছেন? আসুন বুঝিয়ে দিচ্ছি। আপনার চারপাশে যে ভাইবেরাদরকে দেখছেন, সবাই কিন্তু আপনার মতো ফেরেশতা নয়। তন্মধ্যে অনেক এমন আছেন, যারা পতিতাবৃত্তিতে সহযোগিতা করছেন। আপনি আশ্চর্যান্বিত হতে পারেন, তবুও বলি একটু মাথা খাটান! বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে যাবে।


এক.


ধরুন,দৌলতদিয়া পতিতাপল্লি। এখানে হাজারো পতিতা দৈনন্দিন কাজ করছে। নিজের জীবিকার্জন করছে। তারা কেন কাজ করে? ফ্রীতে কাজ করে না।


তারা টাকার জন্য নিজের সতীত্বনাশ করে। এখন আমরা যদি এই পতিতাপল্লিতে গিয়ে নিজের খাহেশ পূরণ না করতাম, পতিতাদের টাকার্জন বন্ধ হয়ে যেতো, পতিতালয় বন্ধ হয়ে যেতো। কেননা, যেখানে টাকা নেই, সেখানে কি কেহ বেহুদা পড়ে থাকবে? সুতরাং বুঝা গেলো, আমরা পতিতালয়ে গিয়ে তাদেরকে কাজে সমর্থন দিচ্ছি। কাজ দিয়ে, টাকা দিয়ে তাদেরকে কাজে উৎসাহ দিচ্ছি।


দুই.


ইন্টারনেট ব্যবহার করেনা, এমন যুবক পাওয়া বড় মুশকিল।


কিশোর-কিশোরী ,যুবক-যুবতী মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আর পর্ণোসাইটে ক্লিক করেনি,এমন শ’তে দশজন পাওয়া যাবে কি না বলা বড় দায়।


আপনি যদি বিশ্ববাজারে পর্ণো বিক্রি সম্পর্কে সামান্য ধারণা রাখেন,তাহলে হয়তো দেখে থাকবেন, অনেক ওয়েবসাইট এমন রয়েছে যারা পর্ণো ভিডিও ক্রয় করে। এগুলো ক্রয় করে নিয়ে তাদের ওয়েবসাইটে পাবলিশ করে।


আপনি পর্ণোওয়েবে, বাংলাদেশ পতিতালয়ের অনেক পর্ণো ভিডিও খুঁজে পাবেন।


আমি একবার দেশের সরকার অনুমোদিত পতিতালয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে গুগলে সার্চ দেই, আমাকে আশ্চর্যান্বিত করে,দৌলতদিয়া পতিতাপল্লির একটা পর্ণো ভিডিও সামনে চলে আসে।


তারপর আরেকটু খুঁজে দেখলাম, বিশ্ব পর্ণো বাজারের অনেক ওয়েবে বাংলার পর্ণো ভিডিও দৃশ্যমান।


আরেকটু স্পষ্ট করি, আমরা ইন্টারনেটে বাংলাদেশের যে পর্ণো ভিডিওগুলো দেখি, এগুলো ওয়েবের মালিকের কাছে পতিতালয় থেকে বিক্রি করা হয়। এবার যদি আমরা পতিতালয়ে না যাওয়ার ইচ্ছে করি।


 পতিতাদের টাকা দিয়ে ব্যবহার করবোনা এই ওয়াদা করি, তবুও হচ্ছেনা। কেননা,পতিতাপল্লির মালিক যদি নিজেই পতিতাদের ব্যবহার করে! আর ভিডিও ধারণ করে বিক্রি করে। তাহলে তাদের টাকার্জন হয়ে যাচ্ছে।


আপনি যদি নির্বোধ না হয়ে থাকেন, এতক্ষণে হয়তো বুঝে গেছেন যে, আমরা ইন্টারনেটে পর্ণো ভিডিও দেখে পতিতাদের সমর্থন করছি কি না!


অর্থাৎ পতিতাপল্লি, পতিতাবৃত্তি বন্ধ করতে আমাদেরকে পর্ণো ভিডিও দেখাও বন্ধ করতে হবে।


তিন.


এক.দুই নাম্বার থেকে বুঝেছেন যে, একজন পতিতা ফ্রীতে কাজ করেনা। টাকার জন্য কাজ করে। সুতরাং যদি পতিতাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, তারা আর এই গর্হিত কাজ করতো না।


যুব সমাজকে বেহায়াপনা কাজের দিকে ঠেলে না দিয়ে,পতিতাপল্লির অনুমোদন তুলে নেওয়া এবং পতিতাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য সরকারকে অনুরোধ থাকলো।


-এক.দুই.তিন পড়ে কি বুঝলেন? পতিতাবৃত্তির জন্য কি শুধু পতিতারাই দায়ী? না বরং তাদেরকে সমর্থন দিয়ে,তাদের পাপ করার ক্ষমতাকে জন্মদাতা আমরাই।


আসুন আমরা পরিবর্তন হই।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.