Header Ads

আজ বাংলা
ইংরেজি

এসএসসি; অটোপাসের দাবি শিক্ষার্থীদের

 

-হিফজুর রাহমান

অটো পাসের দাবিতে এসএসসি ২০২১ এর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন করেও তাদের দাবিদাওয়া জানাচ্ছে। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে "করোনার মধ্যে এসএসসি নয়" নামে একটা গ্রুপ খুলে, সেখান থেকেই তাদের আন্দোলন শুরু হচ্ছে ও ছড়াচ্ছে বলে জানা যায়।

তারা বিভিন্ন দাবি জানাচ্ছে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বরাবর। করোনা প্রাদুর্ভাবের সময় তাদেরকে হুমকিতে না ফেলতে অনুরোধও জানাচ্ছে তারা।


দ্যা সুন্নাহ বিডিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের,নেতৃত্ব দানকারী শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিদাওয়া পাঠিয়েছেন পাঠকের বরাবর প্রকাশ করার জন্য।

 তাদের দাবিদাওয়া তোলে ধরা হলো,

 



স্কুল বন্ধ  ১০ মাস যাবত। এই ১০ মাসে আমরা বিদ্যালয়ের ধারপ্রান্তেও পৌঁছাতে পারি নাই। যার ফলে আমাদের পড়াশোনার অনেক বড় একটা ক্ষতি হয়েছে। এই অবস্থায় অনলাইন ক্লাস করানো হয়েছিলো, যা আমাদের শিক্ষার পূর্ণতা দিতে পারে নাই। আমাদের নবম শ্রেণিতে যে বিষয়গুলা পড়ানো হয়েছিলো সেগুলোই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আমাদের অনলাইন ক্লাসে উত্থাপন করা হয়েছে। আর বাংলাদেশের অনেক আছে যারা এই অনলাইন ক্লাস করতে পারে নাই কারণ যারা গ্রামে বাস করে সেখানে পর্যাপ্ত নেট এর সুবিদা নেই,নেই ওয়াইফাই,আর থাকলেও তা খুব কম সংখ্যক। আর যেখানে পরিবার চালানোয় হিমসিম খাচ্ছে সেখানে অনলাইন ক্লাস করার জন্য মেগাবাইট আর এন্ড্রোয়েড ফোন এর এক্সট্রা খরচ বহন করাও অসম্ভব।

আর যদি সিলেবাস এর কথা বলি, তাহলে ১০ম শ্রেণির সাবজেক্ট গুলো থেকে ২৫% কমিয়ে এক্সাম নেয়ার কথা ভাবছে। এক্ষেত্রে মাত্র ৩ মাসে এই কঠিন অধ্যায় গুলো কভার করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব। তাই সিলেবাস যদি ৫০% কমিয়ে এক্সাম নেয়া হয়, তাহলে আমরা এক্সাম দিতে পারবো।

আর শিক্ষামন্ত্রী নিজেই এত সিকিউর ভাবে থেকেও করোনা থেকে রেহায় পাননি! তাহলে আমাদের যদি স্কুল খোলা হয় তাহলে আমাদের করোনা হবে না তার কি গ্যারান্টি আছে?!

সরকারি প্রায় সকল কার্যক্রম করানো হয় অনলাইন'এ, এক্ষেত্রে একমাত্র আমাদেরই কেনো স্কুল এ যেতে হবে। সরকারী লোকদের জীবনের দাম আছে আমাদের নাই?

আর আমাদের ক্লাসে যতই নিয়ম মেনে ক্লাস করানো হোক, দিনশেষে সকল ছাত্রছাত্রী একত্র হবেই, এটাই বাস্তবতা। আল্লাহ না করুক তখন যদি কারো করোনা হয়ে যায় তাহলে সেই দায়ভার কে নিবে?

আর ধরি এক্সাম হচ্ছে,সেক্ষেত্রে যে এক্সাম দিবে,সে মূলত একটা চিন্তার মধ্যে থেকে এক্সাম দিবে। যার ফলে,তার পরীক্ষা খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশই।সেক্ষেত্রে  রেজাল্ট খারাপ হলে এর দায়ভার কে নিবে?

আর অনেক ছাত্রছাত্রী আছে যারা রেজাল্ট খারাপ হলে আত্মহত্যাও করে বসে। আল্লাহ মাফ করুক কেও যেন এই জঘন্যতম পাপ কাজ না করে। তবুও বলা যায় না, ডিপ্রেশন এর ঘুরে মানুষ যেকোনো কিছু করতে পারে।

তাই আমাদের জীবন এর কথা চিন্তা করে অটোপাশ নয়তো ৫০% সিলেবাস কমিয়ে পরীক্ষা নেয়া হোক। আর স্কুল করোনা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকুক।

মোঃইমন আল আদনান

শোলাকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়,মধুপুর, টাংগাইল


           





দীর্ঘ ১০ মাস ধরে তেমন পড়াশোনার সাথে যোগাযোগ নেই। এখন যদি বলেন অনলাইন ক্লাসের কথা। সরাসরি বলে দেই আমি প্রতিদিন এমবি লোড দিতে পারি নাই। 

প্রাইভেট কোচিং ও বন্ধ। আর এতোদিন পড়াশোনার সাথে যোগাযোগ সেরকম না থাকলে আগের পড়াগুলো  কীভাবে মনে থাকবে?!

এই অবস্থায় ২মাস ক্লাস করালে কি ৭৫% সিলেবাস শেষ করা আদৌ সম্ভব? তা নিয়ে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের ভালোই কনফিউশন রয়েছে।


এক নিউজে পরীক্ষা হবেই! অন্য নিউজে অটো প্রোমোশন দিবে! বাসা থেকে চাপ! এই সব মানসিক চাপের মধ্যে আর কতোদিন থাকা সম্ভব?!  আর এই অবস্থায় পরীক্ষা নিলে সীমিত সময়ে সিলেবাস শেষ করার চাপ! সব মিলিয়ে একজন শিক্ষার্থীর অবস্থা টা কেমন হতে পারে? 


এই অবস্থায় অটো প্রোমোশন দিলে লাখ লাখ শিক্ষার্থী অন্তত মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাবে।


পারিবারিক অবস্থা সবার এক নয়।  অনেকেই এই সময় প্রয়োজনের তাগিদে পরিবারের হাল ধরে পরিবারের সাথে থেকেছে , এখনো থাকছে। তারা তো পুরোপুরি পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় সীমিত সময়ে সিলেবাস তারা কীভাবে শেষ করে পরীক্ষায় বসবে?

সবার কথা বিবেচনায় রেখে এই অবস্থায় অটো প্রোমোশন দেওয়া হোক।


ভ্যাকসিন না দিয়ে ক্লাসরুমে গিয়ে পরীক্ষা, যেখানেই এমন করা হয়েছে সব জায়গা শিক্ষার্থীরা করোনা আক্রান্ত হয়ে ঝুঁকিতে পড়েছে। একটা মায়ের কোল খালি হলেও দেশের একটা ভবিষ্যত নষ্ট।

আর কোন অভিভাবক'ই নিজের সন্তানের ক্ষতি চায় না । সবার মতে এই অবস্থায় অটো প্রোমোশন দিয়ে দেওয়া হোক। 


তাছাড়া এইচএসসি পরীক্ষা যখন বাতিল করা হলো, তখন আর এখন কারোনা পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন আছে বলে তো জানা যায় নি। বড় ভাই বোনদের জীবনের দাম কি আমাদের থেকে এক ধাপ বেশি ? নাকি তাদের পরীক্ষা আমাদের থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল?

একই দেশে এরকম বৈষম্য কেন?

সর্বোপরি, সকল দিক বিবেচনায় রেখে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অটো প্রোমোশন দিয়ে দিলে সবাই উপকৃত হয়। 

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর সু-দৃষ্টি কামনা করছি।


জিসান আনম

কুমারখালি  মথুরা নাথ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। কুষ্টিয়া,খুলনা



 







আমি ফাস্টব্যঞ্চার শিক্ষার্থী। নিয়মে আমার সিলেবাস আগেই শেষ করার কথা। করোনার কারণে আমি কোন বই শেষ করতে পারিনি। কেননা,বই নিজে নিজে পড়ে বুঝার মতো যোগ্যতা আমাদের নেই। যদি থাকতো, তাহলে আর স্কুলে যাওয়া লাগতোনা। ঘরে বসে নিজে নিজেই লেখাপড়া করতাম।

যে যে পাঠগুলো শিখেছিলাম, করোনায় স্কুল বন্ধ থাকার কারণে তাও ভুলে গেছি। 

এখন আসি অনলাইনের কথায়। আমি গ্রামে থাকি। যে যে সু্যোগ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে,আমি তা পাইনি। তাছাড়া গ্রামে নেটওয়ার্ক করেনা। অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণও আমার জন্য কষ্টসাধ্য ব্যপার ছিলো। একদিনও অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারিনি।

আমাদের নাকি পরিক্ষা নেওয়া হবে! এই অপূর্ণ পড়ালেখায় যদি এসএসসি এক্সাম হয় তাহলে আমি নিশ্চিত খারাপ ফলাফল করবো। যা আমার জীবনের বিরাট ক্ষতি।

আমি চাইনা এই খারাপ সময়ে এসএসসি পরিক্ষা হোক। কেননা আমি যদি করোনায় আক্রান্ত হই,তাহলে আমার পরিবারের সদস্যরা করোনায় আক্রান্ত হবে। তাছাড়া আমার জীবন থেকে একটা বছর চলে যাবে।
তাই এই বিষয় বিবেচনা করে আমাদের অটোপাস দেওয়ার জন্য মাননীয়া শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অনুরোধ রইলো।

সাহলান আহমেদ জুমান
মাড়োকোনা দাখিল মাদ্রাসা

মৌলভীবাজার,  সিলেট



কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.