Header Ads

আজ বাংলা
ইংরেজি

জুমআবার: আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ নিয়ামত




-মুফতি নবিরুল ইসলাম 

আল্লাহ প্রদত্ত দিন,মাস,বছর এমনকি প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ৷ সময়ের এই সুশৃঙ্খল আবর্তন সবকিছুই তিনি দান করেছেন বান্দার কল্যাণের জন্য। তাঁর ইবাদতের জন্য ৷ তবে কিছু দিন,রাত,মাসকে আল্লাহ মহিমান্বিত করেছেন৷ যেগুলোতে আল্লাহ বান্দার প্রতি রহমত-বরকতের বারিধারা বর্ষন করেন৷ 


বরকতময় দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমআবার৷ যা মুসলমানদের সাপ্তাহিক ঈদের দিন৷


দিনটি আল্লাহ তায়ালার নিকট অনেক মর্যাদাবান৷ অনেক সম্মানিত৷


জুমআবারের মর্যাদা ও তাৎপর্য সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে বলেন-


"হে ইমানদারগণ ! যখন জুমার দিনে (জুমার) নামাজের আজান দেওয়া হয় , তখন তোমরা আল্লাহ পাকের স্বরণের দিকে ছুটে যাও এবং ক্রয়-বিক্রয় পরিহার কর , এটাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে! 


অতঃপর যখন নামাজ সমাপ্ত হয়, তখন পৃথিবীতে ছড়িয়ে পর , আর আল্লাহ প্রদত্ত জীবনোপকরণ অনুসন্ধান কর এবং বেশিবেশি স্বরণ করতে থাক যাতে তোমরা সাফল্যমণ্ডিত হতে পার ৷( সূরা জুমা, আয়াত নং ৯-১০)  


 উক্ত আয়াতগুলো দ্বারা সুস্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে , জুমার আজানের পর জুমার প্রস্তুতি মূলক ওজু গোসল ইত্যাদি ছাড়া দোকানে ক্রয়-বিক্রয়,ব্যবসা -বাণিজ্য ও অন্যান্য পার্থিব কার্যক্রমে নিমগ্ন থাকা  সম্পূর্ণ নিষেধ ৷  বরং আজান শোনার সাথে সাথ মানুষের উচিত তার রবের প্রতি মনোনিবেশ করা৷

 তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মসজিদে উপস্থিত হওয়া৷


এ ছাড়াও এদিনের ফজিলত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থগুলোতে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে ৷ বিখ্যাত সাহাবি হযরত আবু হুরায়রা রা. সূত্রে বর্ণিত,রাসূল (সাঃ) বলেন, "সূর্য উদিত  হওয়ার দিন গুলোর মধ্যে জুমাবার দিন সর্বোত্তম ৷ এ দিবসে হযরত আদম আ. কে সৃষ্টি করা হয়েছে,আর এই দিনে তাঁকে  জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এইদিনে তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে ৷ ( মুসলিম ,হাদিস নং ৮৫৪) 



হযরত আবু হুরায়রা রা. সূত্রে বর্ণিত,রাসূল সা. বলেন,"এক জুমা  পরবর্তী জুমা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ সমূহের কাফফারা স্বরূপ, যদি তাতে কবীরা গুনাহ না করা হয় ৷ ( ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১০৮৬ )



হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বর্ণনা করেন, তিনি বলেন ,রাসূল সা. বলেছেন ,যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরায়ে কাহাফ তেলাওয়াত করবে , তাঁর জন্য এমন একটি (ঈমানের ) নূর  বা আলোয় আলোকিত হবে যা এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে ৷ -(মিশকাতুল মাছাবিহ,হাদীস ২১৭৫) 


একদিকে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা জুমার নামাজে উপস্থিত হওয়ার কঠিন নির্দেশ দিয়েছেন , অন্যদিকে রাসূল  সা. হাদীসে জুমার নামাজ আদায় করার বিপুল ফজিলত বর্ণনা করেছে ৷ যে যতো বেশি আমল করবে সে ততোবেশি লাভবান হবে ৷ মর্যাদাবান এই দিনকে যেই নিয়ামত হিসেবে গ্রহণ করবে এবং আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে দিনটি পার করবে,তার জন্য রয়েছে অনিঃশেষ পুরস্কার৷ আল্লাহ তায়ালা আমাদের যথাযথভাবে জুমার দিনের কদর করার তাওফিক দান করুন ৷ আমিন ৷

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.