Header Ads

আজ বাংলা
ইংরেজি

দারুল উলূম দেওবন্দ: চেতনার বাতিঘর


সুলতান মাহমুদ গজনবী ভার়তবর্ষের মাটিকে উর্বর করে দেয়ার পর,বেশ আরামেই ছিল ভারতবর্ষের বাসিন্দারা৷ কিন্তু যখন থেকে শ্বেত চামড়ার ব্রিটিশদের লোলুপ দৃষ্টি ওদিকে পড়ে, তখন থেকেই বিপত্তি বাধে৷ ব্যবসার কথা বলে ছলে বলে কৌশলে যখন ব্রিটিশরা রাজ্য ক্ষমতা দখল করে নেয় তখন থেকেই শুরু হয় ভারতীয়দের কষ্টের দিন৷ নিজের ঘরে প্রবাসী হয়ে থাকার কষ্টটা ভারতীয়রা হারে হারে টের পেয়েছে৷ গোলা ভরা ধান পুকুর ভরা মাছ কিন্তু মুখে দেয়ার কোন ফুরসত নেই ৷ দীর্ঘ দুশো বছরের ব্রিটিশ শাষণের যাতাকলে পিষ্ট উপমহাদেশের মানুষ যখন একেবারে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের প্রহর গুনছিলো,তখন থকেই প্রতিবাদের মানসিকতা  গড়ে ওঠে ৷ কথায় আছে মানুষ যখন ক্ষুধার্ত  হয় তখন তার হিংস্রতা বেড়ে যায়৷ নেতৃত্ব আর  স্বাধীনতার ক্ষুধা তখন প্রবলভাবে গ্রাস করেছিল মুসলমানদেরকে৷ 

কিন্তু কে দেবে মুক্তি়যুদ্ধের নেতৃত্ব? কার হাত ধরে জাতি ছিনিয়ে আনবে স্বাধীনতার পতাকা?

এখানের প্রতাপশালী হিন্দু জমিদাররা তো ব্রিটিশদের অঘোষিত গোলাম৷ তাদের দ্বারা মুক্তির আশা করা সুদূর পরাহত৷ স্বপ্ন দেখার আগেই স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়া৷

কিন্তু নিপিড়িত মানুষের আর্তচিৎকার আর কতো সহ্য করা যায়! গাছেগাছে আলেম ওলামাদের ঝুলে থাকা লাশ দেখে আর কতো ধৈর্য ধরা যায়?


ভারতবর্ষে ব্রিটিশরা সফল হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে৷


প্রথমত, তারা শাষকদের ক্ষমতা ও নারীলিপ্সাকে কাজে লাগিয়েছে একেবারে যুৎসই করে৷


দ্বিতীয়ত, তারা দেশীয় গাদ্দারদেরকে তল্পিবাহক হিসেবে পেয়েছিলো একদম চাহিদার চেয়েও বেশী৷


তৃতীয়ত, তারা এদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে একেবারে  বিনষ্ট করে দিয়েছিলো ৷ যারফলে অল্পসময়েই গড়ে ওঠে পঙ্গু এক প্রজন্ম৷ তাদের এ অস্ত্রটা সবচেয়ে সফল ও কার্যকরী বলে মনে হয়৷


চতুর্থত, মানুষের জিহাদ ও প্রতিবাদের চেতনাকে দমিয়ে রাখার জন্য মানুষের ধর্মীয় আবেগ- অনুভূতিকে নষ্ট ও নোংরা সংস্কৃতির মাধ্যমে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করে৷


জাতির এ চরম দুর্দিনে কে নেবে নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব? নির্যাতিত -নিপিড়িত, বঞ্চিত- শোষিত ভারতীয়রা সর্বক্ষণ মুহাম্মদ বিন কাসিম আর গজনবীর অপেক্ষা করতো৷

পরবর্তী প্রজন্মে হয়তো এমন একজন আসবেন, এ আশায় দু'শ বছর পার করলো৷

অনেক ঘাত প্রতিঘাতের পর তাদের সে স্বপ্ন আশা পূরণ হলো৷ ভারতের আকাশে ইমদাদ,কাসিম,রশিদ,মাহমুদ,হুসাইন নামীয় অসংখ্য মুক্তির সূর্য উদিত হলো৷ বন্দিত্বের দোয়ারে মুক্তির করা বাজতে শুরু করলো৷


ব্রিটিশদের আগ্রাসনের মাত্রা এতোই বেড়ে যায় যে মানুষ তাঁদের ধর্ম- কর্মের স্বাধীনতাটুকুও হারিয়ে ফেলে৷ দেশ আর দ্বীন দুটিই মানুষের সাথে জড়িত৷ এসব ছাড়া মানুষের বাঁচা দুর্বিসহ হয়ে ওঠে৷


 মানুষের ঈমান ইজ্জত সর্বোপরি স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাই দারুল উলূমের যাত্রাপথ তৈরি করে দেয়৷

১৮৬৬ সনে উম্মাহর মুক্তির অগ্রদূত হয়ে আত্মপ্রকাশ করে দারুল উলুম দেওবন্দ৷ আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার দীপ্ত শপথ নিয়ে কাসিম নানুতবী রহ. এবং তাঁর সহযোগীরা প্রতিষ্টা করেন দারুল উলুম দেওবন্দ নামে একটি ইলহামী প্রতিষ্ঠান৷ যা আজ পুরো বিশ্ব জুড়ে বিশুদ্ধ ঈমান ও আকীদা,ইসলামের সঠিক মূল্যবোধ বিস্তারে কাজ করে যাচ্ছে নিরবিচ্ছিন্নভাবে৷

দারুল উলুমের উপর ভর করে, তার চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে উপমহাদেশে গড়ে উঠেছে লক্ষ লক্ষ ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র৷ বর্তমানে উপমহাদেশীয় অঞ্চলে আমরা যাকে কওমী মাদরাসা বলে চিনি৷ 

বর্তমানে ইসলামের আদর্শ প্রচারে দেওবন্দি আদর্শের এসব কওমী মাদরাসার ভূমিকা অপরিসীম৷ 

জাতির বিভিন্ন দুর্যোগে,দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ধর্মবিরোধী অপশক্তি প্রতিরোধে এসব কওমী মাদরাসার অবদান অনস্বীকার্য৷ যুগ যুগ ধরে আদর্শবান,খোদাভীরু,দেশপ্রেমিক জনশক্তি তৈরী হচ্ছে এসব কওমী মাদরাসা থেকে৷

লেখক, কাওসার সিদ্দিক 

বিভাগীয় সম্পাদক, The Sunnah BD.Com

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.