Header Ads

আজ বাংলা
ইংরেজি

কেমন হবে বাইডেনের আমেরিকা



আমেরিকার সংবিধান অনুয়ায়ী নির্বাচন পরবর্তী জানুয়ারী মাসের বিশ তারিখ, দিন  ১২.০০ মিনিটে আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট-ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা গ্রহণ করেন৷ সে হিসেবে সম্প্রতি হয়ে যাওয়া মার্কিন নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিনিধি জো বাইডেন ও কমলা হ্যারিস প্রধান বিচারপতির কাছে শপথপাঠের মাধ্যমে হোয়াইট হাউজের মসনদে আসীন হন৷ 


জো বাইডেন হলেন জর্জ ডব্লিউ বুশ,বারাক ওবামাদের দল ড্যামোক্রেট থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি৷  পূর্বে হোয়াইট হাউজের দখল নিতে তিনি অনেকবার দৌড়ে অংশ নিলেও অন্যের লেখা চুরি, বেফাস মন্তব্যসহ নিজের  বিভিন্ন অপরাধে তিনি বারবার ছিটকে পরেন। প্রতিযোগিতার মাঠ থেকে৷ আবার কখনো স্ত্রী-পুত্রসহ অনেক নিকটাত্মীয়দের হারিয়ে নিজেই থেমে যান মধ্যপথে৷  তবে তিনি কখনো আশাহত হননি৷ রাজনীতিতে নিজেকে সক্রিয় রেখেছেন সবসময়৷


বারাক ওমাবা যখন আমেরিকার নির্বাচনে অংশ নেন তখন তিনি পররাষ্ট্রনীতিতে পারদর্শী একদন ঝানু রাজনীতিবীদকে খোঁজছিলেন সবসময়৷ সেই চিন্তা থেকে তিনি জো বাইডেনকেই বেছে নেন নিজের সহযোগী হিসেবে৷ বারাক ওবামা বলতেন "জো নিচের চিন্তায় কঠোর৷ সে কাউকে বদলাতে পারে কিন্তু তাকে কেউ বদলে দিতে পারেনা"৷


বারাক ওমাবাকে বলা যায় আমেরিকার জনপ্রিয় প্রসিডেন্টদের একজন৷ যিনি পরপর দুইমেয়াদে প্রসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন৷ 


যুদ্ধপ্রিয় ওবামা তার মেয়াদে সিরিয়া,লিবিয়া,ফিলিস্তিনসহ বহু মুসলিম দেশে যুদ্ধের দাবানল জ্বালিয়েছেন৷ নিরব রক্তবিলাসী হওয়ায় ঘাতক হিসেবে তিনি খুব একটা পরিচিত নন৷ 


তার সাধাসিধে চালচলন সুন্দর বচনভঙ্গিতে অনেকেই তার ভক্ত৷ আসলে বুশ আর ওবামার মধ্যে তেমন কোন ফারাক নেই৷ তবুও দেখবেন আমাদের মধ্যে বুশের প্রতি যতেটা ঘৃণা আর ক্ষোভ ওমাবার প্রতি ততোটা নেই৷


যাইহোক আমেরিকা আর তার প্রেসিডেন্টদের কাসুন্দি টানা আমার কোন ইচ্ছা না৷ মার্কিন মসনদে কে আসলো না আসলো তাও প্রয়োজনীয় না৷ 


আমি অবাক হচ্ছি আমেরিকার নির্বাচন আর প্রেসিডেন্ট নিয়ে আমাদের মুসলমান ভাইদের আগ্রহ -উৎসাহ আর উদ্দীপনায়৷ বাইডেনের বিজয়ে ওই দেশের লোকের চেয়ে আমাদের জনগণকে বেশী তৃপ্ত বলে মনে হচ্ছে৷ অবশ্য এর কিছু কারণও আছে৷ 


আমরা মুসলিমরা বিশেষত বাঙালী মুসলিমরা আবেগপ্রবণ৷ কোন কিছু গভীরে গিয়ে ভাবার কোন চেষ্টা-কসরত আমাদের স্ববাবে নেই বললে চলে৷ 


বাইডেন বিজয়ী হওয়ার পর হাদীস পড়েছে,তা নিয়ে দেখলাম সোস্যাল মিডিয়ায়  রীতিমতো ঝড় চলছে৷ 


অনেকেই বাইডেনকে মুসলমানদের ভাবী বন্ধু ভেবে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন৷ বাইডেন কাস্মীরি মেয়েকে তার উপদেষ্টায় রেখেছে,বাংলাদেশী জায়ানকেও রেখেছে নিশ্চয় সে মুসলিমপ্রেমী৷ 


বাংলাদেশীরা বাইডেনকে সমর্থন করার আরেকটা রাজনৈতিক কারণ আছে৷ অনেকেই ভাবছেন বাইডেন এসে বাংলাদেশের উপর এক যুগ যাবত চেপে থাকা রাজনীতিরও পরিবর্তণ হবে৷ কারণ বাংলাদেশের সাবেক বিরোধীদল আমেরিকার কিছুটা নিকটতম বলে সবাই জানে৷ সম্পতি বাংলাদেশে জঙ্গী আছে এমন খবর আমেরিকার গণমাধ্যমে আসার পর এ শ্রেণী লোকদের আশার পরিধীটা আরো বড়ো হয়েছে৷ 


তবে এসব যাই আছে আমার কাছে সবগুলো স্বপ্নদোষ বলে মনে হয়৷ আমেরিকার নীতি ও থিউরি  অনুযায়ীই সবকিছুই নির্ধারিত হয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও হবে৷  মাঝে কিছু পুতুলের মুখচ্ছবি দেখে আমরা নাচানাছি করছি৷


প্রেসিডেন্ট পরিবর্তনের দরুন কখনোই মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন সম্ভব নয়৷ 



রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্রেটদের মুসলিম বিরোধী কঠোর তা সর্বজনবিদিত৷ ডেমোক্রেটরা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ যুদ্ধ তামাশার খেলা খুব পছন্দ করে৷ বোশ,ওমাবার সময়কালীন বিশ্বের দিকে তাকালে বিষয়টা সহজেই খোলাসা হয়ে যাবে৷ 


ধরুন, ফিলিস্তিন-ইসরাইয়েল ইস্যুকেই৷ ডেমোক্রেটদের দলীয় নীতিতে ইসরাইলকে সুস্পষ্টভাবে সমর্থন করার কথা উল্লেখ আছে৷ 


তাই অনেকেই মনে করেন বাইডেন মুসলিম বিশ্বের জন্য বিপদজনক হয়ে ওঠতে পারেন৷ 

নতুন নতুন সংঘাতে জড়াতে পারেন৷ ট্রাম্পের একগুয়ে ও অদূরদর্শী মনোভাবের ফলে বিশ্বে আমেরিকার হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার প্রতি গুরুত্ব দিবেন বাইডেন৷ মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য বিস্তারের কার্যক্রমকে আরো বেগমান করে তুলতে পারেন তিনি৷ উদীয়মান চীন,তুরস্ক,পাকিস্তানকে ধরাশায়ী করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করতে পারে বাইডেন কমলার আমেরিকা৷


 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মূলত একটা নাতির গোলাম বলা যেতে পারে৷ এখানে যে মুখই আসুক তাকে দেশের নীতিকে নিয়েই চলতে হবে৷ মুললিম দেশগুলোকে নিরস্ত্রকরণ,উত্থানের চেষ্টারত মুসলিম কান্টেরিতৃকে ধসিয়ে দেয়া দেশটির অন্যতম চরিত্র


তাই বাইডেনকে নিয়ে আমাদের মাত্রাতিরিক্ত আবেগ উচ্চাস কিছুই নেই৷ শধুমাত্র মুদ্রার এপিট ওপিঠের পার্থক্য৷ বাস্তবতা উপলব্ধির জন্য আমাদেরকে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে৷ বাইডেনের আমেরিকার সুফল-কুফল পেতে তার নেতৃত্বে কিছুদিন পার করতে হবে৷ 


লেখেছেন,কাওসার সিদ্দিক

বিভাগীয় সম্পাদক - দ্যা সুন্নাহ বিডি

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.